শিবগঞ্জ গ্রাম

 

শিবগঞ্জ গ্রাম

আমাদের এই গ্রামের নামটি খঞ্জনা

আমাদের এই নদীর নামটি অঞ্জনা

আমার নাম তো জানে গাঁয়ের পাঁচজনে

আমাদের সেই তাহার নামটি রঞ্জনা

কবিগুরুর ছিলো খঞ্জনা গ্রাম –আমাদের আছে  শিবগঞ্জ গ্রাম

আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে

বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।

গুরুদেবের গ্রামে ছোট নদী ছিলো আমাদের গ্রামেও একটি নদী আছে যার নাম আত্রাই

বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলার অন্তর্গত মহাদেবপুর উপজেলায় অবস্থানএই গ্রামের  গ্রামটি পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আত্রাই নদী।



শিবগঞ্জ গ্রামটির অবস্থান মহাদেবপুর উপজেলা শহর থেকে দুই মাইল দক্ষিণে পাকা রাস্তা , বিদ্যুৎ আছে যোগাযোগ নদীপথ স্থল পথ দুটিই সুন্দর

বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্তর্গত নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার শিবগঞ্জ গ্রামের আছে সুপ্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্যমন্ডিত জনপদ। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয়-চতুর্থ শতকে এই প্রাচীন জনপদের কেন্দ্র ভূমিতে গড়ে ওঠে পুণ্ড্রনগর নামক এক নগর সভ্যতা কেন্দ্র। নগর সভ্যতার অভ্যুদয় প্রমাণ করে যে, এর ছিল বিশাল কৃষিভিত্তিক পশ্চাদভূমি। এখানে ছিল একটি সুবৃহৎ সচ্ছল কৃষিজীবী সমাজ। ক্রমশ স্থায়ী গ্রামীণ জীবন ধারার বিকাশ ঘটে, গোড়াপত্তন হয় সমৃদ্ধ কৃষি সমাজের। নানা জাতিগোষ্ঠীরর মানুষ যুগ যুগ ধরে বসবাস করতে গিয়ে গড়ে তোলে এক নতুন ধরনের সমাজ ব্যবস্থা, বিকশিত হতে থাকে এক স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক রুপকাঠামো। নানা জাতিগোষ্ঠীরর মানুষ মিশে তৈরী করেছে একটি মিশ্র জনগোষ্ঠী।



এই গ্রামটির রাস্তা ঘাট অলিগলি দেখলেই বোঝা যায় এই গ্রামটি একসময় একটি বাণিজ্যিক জায়গা হিসাবে পরিচিত ছিলো গ্রামটির নামকরন হয়েছে সনাতনী সম্প্রদায়ের আদি দেবতা শিব থেকে ।যেহেতু এখানে একসময় হাটবাজার স্থায়ী ভাবে হতো এবং নদীর ধারে হওয়াই নদী যোগাযোগ অত্যন্ত সুন্দর এখানকার কিছু পুরাতন ভবন প্রমান করে যে এখানে একসময় পাবনা চাটমোহরের মানুষেরা ব্যবসা বাণিজ্য করতে এসেছিলো তাই শিব এর সাথে গঞ্জ যুক্ত হয়ে গ্রামটির নাম ধারণ করেছে শিবগঞ্জ



লোকমুখে জানা যায় এখানকার অবস্থান একসময় এই অঞ্চলে এত প্রবল ছিলো যে জমি রেজিষ্ট্রি অফিস এই গ্রামে হওয়ার জন্য বৃটিশ সরকার প্রস্তাব দিয়েছিলো কিন্তু সুবিধা মত জায়গা পাওয়া যায়নি তাই পাশ্ববর্তী মহাদেরপুরের জমিদার জায়গা প্রদান করেছিলেন সেই কারণে অফিসটি সেখানে চলে যায় তার কিছুদিন পরেই তথা ব্রিটিশ শাসনকালে ১৮৮২ সালে নওগাঁ মহকুমা সৃষ্টি হওয়ার পর ১৮৯৮ সালে মহাদেবপুরকে নওগাঁ মহকুমার অর্ন্তভূক্ত করা হয়। তারপর থেকেই এই গ্রামের বাজার ব্যবস্থা আস্তে আস্তে মহাদেবপুরে চলে যায় এবং গ্রামটি তার ঐতিহ্য হারাতে থাকে।

( তহশীল অফিস- ছবিটির পাশে পুরাতন ভবন । এই ভবনগুলি নির্দেশ করে যে এক সময় এখানে উন্নত সভ্যতা ছিলো )

একটি আদর্শ গ্রামে যা যা থাকা উচিত তার প্রায় প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান এই গ্রামে আছে। গ্রামটিতে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় , একটি হাইস্কুল , একটি মাদ্রাসা , একটি পোষ্ট অফিস , সরকারী তহশীল অফিস , দুইটি মসজিদ দুই টি সার্বজনীন মন্দির আছে এই গ্রামে হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়ের বাস। এখানে আদিবাসিদেরও বাস দেখা যায় এই গ্রামে খেলাধুলার জন্য একটি সুন্দর অনেক বড় একটি খেলার মাঠ আছে এখানে একসময় অনেক অনেক ফুটবল খেলা হতো বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে খেলতে আসতো পরবর্তীতে এখানে ক্রিকেট খেলারও প্রসারণ ঘটেছিলো যাদের নাম জেলা পর্য্যায়েও শোনা যেতো।

শিবগঞ্জ গ্রাম
                                            আত্রাই নদী

শিবগঞ্জ গ্রামের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান মুসলমান সম্প্রদায়ের দুই ঈদ এখানে সুন্দর একটি ঈদগাহ আছে সনাতন ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হয় তিনটি এখানে চৈত্রমাসে সনাতন সম্প্রদায়ের বারণী স্নান উপলক্ষ্যে চার পাচ দিন ধরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান  অনুষ্ঠিত হয় যেখানে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়



শিবগঞ্জ গ্রামে এখনো ছোট বড় মিলে প্রায় ১২৫টি স্থায়ী দোকান এর সমন্বয়ে একটি বাজার ব্যবস্থা আছে যা এই গ্রামের মানুষের জীবিকা নির্বাহে বড় ভূমিকা রাখে তা ছাড়া আছে কৃষি গ্রামের অনেক ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত পড়াশুনার জন্য চাকররি জন্য গ্রামের অনেক ছেলে মেয়ে ঢাকা রাজশাহী সহ দেশের বাহিরেও অবস্থান করে এই গ্রাম থেকে তৈরী হয়েছে হচ্ছে এম বি বি এস ডাক্তার , ইঞ্জিনিয়ার , লয়ার সহ অনেক সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের চাকরীজীবি

                                            খেলার মাঠ

Click Here For More Details

অপরাজিতা দৈনিক পত্রিকা

অপরাজিতা শপিং মল

https://studio.youtube.com/channel/UCvDEMruDy6LF1UEJwWNqqdQ

https://www.facebook.com/

Linkedin

https://www.facebook.com/narayan.shaha

ওয়েব সাইট

প্রথম আলো পত্রিকা পড়ুন 

Nilkontho Shopping Mall


Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

শিবগঞ্জ গ্রাম

শিবগঞ্জ গ্রাম